Class 7 Bengali Poem Smrichihna by Kamini Roy Easy Analysis


সপ্তম শ্রেণি
স্মৃতিচিহ্ন
কামিনী রায়।

Class 7 Bengali Poem Smrichihna by Kamini Roy Easy Analysis
Class 7 Bengali Poem Smrichihna by Kamini Roy Easy Analysis

কামিনী রায়ের স্মৃতিচিহ্ন কবিতার বিষয়বস্তুর গভীর আলোচনা

Smrichihna poem analysis


কবিতার নাম 'স্মৃতিচিহ্ন। ইংরেজিতে বলা হয় Memorial Monumental, স্মৃতিচিহ্ন শব্দের অর্থ স্মৃতি সূচক চিহ্ন বা স্মৃতি উদ্রেককারী চিহ্ন। কামিনী রায়ের লেখা স্মৃতিচিহ্ন কবিতাটি আকারে ছোটো। মোট ১৪ টি লাইন আছে। গঠন বিচারে এটি একটি সনেট।


সপ্তম শ্রেণির স্মৃতিচিহ্ন কবিতার প্রথমে প্রথমে আছে-


"ওরা ভেবেছিল মনে আপনার নাম

মনোহর হর্ম্মরূপে বিশাল অক্ষরে

ইষ্টক প্রস্তরে রচি চিরদিন তরে

রেখে যাবে।"


অর্থাৎ, অর্থ ও সম্পদের অহংকারে অন্ধ মানুষরা নিজেদের নাম অক্ষয় করে রাখার জন্য কত বড়ো বড়ো ইমারত নির্মাণ করেছিল। নিজেদের নাম কীর্তন করার জন্য রাজা মহারাজারা কত সৌধ করিয়েছেন, কর প্রসাদ নির্মাণ বানিয়েছেন। সেইসব মনোহর বিশালাকায় প্রাসাদে রাজারা নিজেদের নাম খোদাই করে জগতে নিজেদের মহিমা ঘোষনা করতে চেয়েছিলেন। তারা ভেবেছিলেন, পৃথিবীতে তাঁরা চির অমর হয়ে থাকবেন। কিন্তু-


"মূঢ় ওরা, ব্যর্থ মনস্কাম!"


রাজা ও দোর্দন্ডপ্রতাপ শাসকদের সেই অভিলাষ পূর্ণ হয়নি। পৃথিবীতে সময়ের স্রোতে তাঁরা চিরদিনের জন্য হারিয়ে গেছেন। মূঢ় শব্দের অর্থ বুদ্ধিহীন। ব্যর্থ মনস্কাম শব্দের অর্থ মনের কামনা ব্যর্থ হয়েছে।


এর পরে আছে,

"প্রস্তর খসিছে ভূমে প্রস্তরের পরে, চারিদিকে ভগ্নস্তূপ, তাহাদের তলে,

লুপ্ত স্মৃতি;"


অর্থাৎ রাজা মহারাজারা যে ইমারত ও সুদৃশ্য প্রাসাদ বানিয়েছিলেন, তা আজ ভেঙে পড়েছে। ইমারতের ও সৌধের পাথর খসে পড়ছে। সব ধ্বংস হয়ে গেছে। সুদশ্য, সুসজ্জিত অট্টালিকা ও সৌধগুলি আজ ভগ্নস্তূপে পরিণত হয়েছে। সেই ভগ্নস্তূপের তলায় তাদের স্মৃতি চাপা পড়ে গেছে। মানুষের মন থেকে তাদের স্মৃতি লুপ্ত হয়ে যেছে। লেখিকা উপমার সাহায্যে বলেছেন-


"শুষ্ক তৃণ কাল-নদী জলে

ভেসে যায় নামগুলি, কেবা রক্ষা করে।”


নদীতে যেমন শুষ্ক তৃণ বা ঘাস ভেসে যায়, তেমনি ভাবে সময়ের নদীতে অহংকারী রাজা-মহারাজাদের নামগুলি ভেসে চলে গেছে। তাদের নাম ও স্মৃতি রক্ষা করার জন্য এখন কেউ অবশিষ্ট নাই। এর পরের অংশে আছে-


"মানব হৃদয়-ভূমি করি অধিকার

করেছে প্রতিষ্ঠা যারা দৃঢ় সিংহাসন,

দরিদ্র আছিলে তারা, ছিল না সম্বল

প্রস্তরের এত বোঝা জড়ো করিবার।”


কবিতার প্রথম অংশে রাজা মহারাজার পরিচয় আছে। আর দ্বিতীয় আশে আছে সাধারণ মানুষের কথা। যারা মহৎ মানুষ, যারা মানুষের সেবায় জীবন উৎসর্গ করেছেন, মানুষ তাদের মনে রাখে। পরের সেবায় নিয়োজিত মানুষরা আপন স্বার্থচিন্তা না করে সমাজের ও দেশের স্বার্থকে বড়ো করে দেখেছিলেন। তাই অপামর সাধারণ মানুষের হৃদয়ভূমিতে বা মনোরাজ্যে তাদের সিংহাসন অটুট আছে। জীব সেবাকে শিব সেবা বলে মনে করেছিলেন যে সব মহাপুরুষ, মানুষ ভালোবেসে তাদের হৃদয়ের মাঝে স্থান দিয়েছে। তাদের অর্থ ছিল না, সম্পদ ছিল না, তাই পাথর সংগ্রহ করে সুবিশাল অট্টালিকা বানানোর ক্ষমতা তাদের ছিল না। কিন্তু তারা প্রেম ও ভালোবাসা দিয়ে মানুষের মনে স্থায়ী আসন করে নিয়েছেন।


এর পরে আছে-

"তাদের রাজত্ব হের অক্ষুন কেমন

কাল স্রোতে ধৌত নাম নিত্য সমুজ্জ্বল।”


মানুষকে ভালোবেসে, মানুষের জন্য জীবন উৎসর্গ করা এই মহাপুরুষরা নিত্য পূজিত হন। মানুষের মনে তাদের রাজত্ব চিরদিন অক্ষুন্ন বা অমলিন থাকে। সময়ের স্রোতে মহান মানুষের নাম হারিয়ে যায় না। মানবপ্রেমী ও দেশপ্রেমী মানুষদের নাম চিরদিন উজ্জ্বল থাকে।


এই কবিতায় রাজা মহারাজার শোষন ও অভ্যাচারের সঙ্গে মানবদরদি ও মানযপ্রেমী মানুষের কীর্তির তুলনামূলক আলোচনা করা হয়েছে। রাজা, জমিদার, মহাজন এরা সবাই সাধারণ মানুষকে শোষণ করেছে, অত্যাচার করেছে। তারা সাধারণ মানুষকে ভালোবাসে নাই। তাই তাদের ইঁট, পাথরের প্রাসাদ অবহেলায় ভেঙে পড়েছে, মানুষ তাদের ভুলে গেছে। অন্যদিকে, যারা মানুষকে ভালোবেসে মানুষের মঙ্গল করেছেন, তাঁদের নাম ও স্মৃতি মানুষ যুগ যুগ ধরে শ্রদ্ধার সঙ্গে মনে রাখবে।


#class7 #class7bengali #class7bengalipoem #class7bangla #class7smritichihna #class7smritichinno #smritichihnapoem #smritichihnapoemkaminiroy #classvii #wbbse #wbbseclass7