ব্যোমযাত্রীর ডায়রি
সত্যজিৎ রায়
নবম শ্রেণির বাংলা

Class 9 Byomjatrir Diary by Satyajit Roy Question Answer

Class 9 Byomjatrir Diary by Satyajit Roy Question Answer 


সত্যজিৎ রায়ের বিখ্যাত গল্প গ্রন্থ হল প্রফেসর শঙ্কুর (Professor Shanku)ডায়েরি। এই গ্রন্থের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি গল্প হল ব্যোমযাত্রীর ডায়েরি (Byomjatrir Diary)। গল্পটি নবম শ্রেণীতে(class 9) পাঠ্য আছে। এখানে এই গল্পের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রশ্ন এবং উত্তর (question  answer) নিয়ে আলোচনা করেছি। নবম শ্রেণীর ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি আর্টিকেল।


Class 9 Byomjatrir Diary by Satyajit Roy Question Answer 


Q1. প্রোফেসর শঙ্কুর কী কী দেখে গ্রহান্তরে যাওয়ার বাসনা জাগে?

সত্যজিৎ রায়ের (Satyajit Roy) “ব্যোমযাত্রীর ডায়রি”-তে (Byomjatrir Diary) প্রোফেসর শঙ্কুর (Professor Shanku) অন্য গ্রহে যাওয়ার ইচ্ছা জাগে। মাঝে মাঝে প্রোফেসরের মাধ্যাকর্ষণের বিপরীত গ্রহান্তরে যাওয়ার আগ্রহ জাগে। একটা বিশেষ দিন থেকে এই টানের অনুভূতি জাগে।

উল্কাপাতের দর্শন : শঙ্কুবাবু বারো বছর আগে আশ্বিন-কার্তিক মাসের রাত্রে খাওয়ার পর আরামকেদারায় শুয়ে তিন ঘণ্টা শরতের মৃদু বাতাস উপভোগ করেন আর ঘণ্টায় আট-দশটা উল্কাপাত রোজ দেখেন।

আশ্চর্য দৃশ্য : আশ্বিনের রাতে হঠাৎ একটি উল্কা প্রচণ্ড বেগে ধেয়ে আসে। সেটি শঙ্কুবাবুর বাগানের পশ্চিমদিকের গোলঞ্চ গাছটার পাশে পড়ে এবং জোনাকির মতো জ্বলতে থাকে। এই ঘটনাকে প্রথমে স্বপ্ন বলে মনে হলেও পরে প্রোফেসর আর তা স্বপ্ন বলে ভাবতে পারছেন না কারণ – 

সেই দিন থেকে গোলঞ্চ গাছে গোলঞ্চ ফুল না-ফুটে অন্য রকমের ফুল ফোটে। সেই ফুলের আঙুলের মতো পাঁচটা করে ঝোলা ঝোলা পাপড়ি। তার দিনের বেলায় কুচকুচে কালো রং কিন্তু রাতে সে ফসফরাসের মতো জ্বলে। আর হাওয়াতে মনে হয় সে যেন হাতছানি দিয়ে কাউকে ডাকছে। এর পর থেকে শঙ্কুবাবুর গ্রহান্তরে যাওয়ার আকর্ষণ বাড়ে। তাই মাথায় রকেটের চিন্তা আসে।

Q2. বিধুশেখর কে? তার সম্বন্ধে প্রোফেসরের ধারণা কী? ১০ জানুয়ারির ডায়রিতে বর্ণিত বিধুশেখরের কীর্তি আলোচনা করো।

সত্যজিৎ রায়ের “ব্যোমযাত্রীর ডায়রি”-তে উল্লিখিত বিধুশেখর হল প্রোফেসর শঙ্কুর আবিষ্কৃত রোবট বা যন্ত্রমানব। যার ওজন সাড়ে পাঁচ মন, নিজস্ব বিচার বিবেচনা শক্তি ও দূরদর্শিতা আছে। 

বিধুশেখরের কিছু কাজকর্ম দেখে প্রোফেসরের মনে হয়েছে তাঁর বৈজ্ঞানিক বিদ্যেবুদ্ধি দিয়ে তৈরি রোবট প্রোফেসরের থেকে মাঝেমধ্যে অনেক বেশি কাজ করে।

১০ জানুয়ারি ডায়রিতে বিধুশেখর সম্বন্ধে বলা হয়েছে – কলকবজার মানুষ বিধুশেখর দু-দিন থেকে একটি গাঁ গাঁ শব্দ করছে। অথচ এর বুদ্ধি বা চিন্তাশক্তি বলে কিছুই নেই। ওকে কাজ করতে বললে কাজ করে আর নড়াচড়ার ঠং ঠং শব্দ করে। 

প্রোফেসর শঙ্কু একদিন রকেট কী ধাতু দিয়ে তৈরি করবেন ভাবছিলেন। কারণ সাধারণ ধাতুতে তা সম্ভব নয়। তাই অনেক পরীক্ষা করে ব্যাঙের ছাতা, সাপের খোলস এবং কচ্ছপের ডিমের খোলা মিশিয়ে তাতে যেই ট্যানট্রাম বোরোপ্যাক্সিনেট মেশাতে যাবেন, তখনই বিধুশেখর ঘটাং ঘটাং শব্দে মাথা নেড়ে শঙ্কুবাবুকে বাধা দিল।

পরে ভেলোসিলিকা মিশিয়ে নতুন ধাতু তৈরিতে বিধুশেখর ঘটাং ঘটাং শব্দে উপর-নীচে মাথা নেড়ে সম্মতি জানাল। সেইমতো শঙ্কুবাবু রোবটের জন্য নতুন ধাতু তৈরি করলেন। আর ট্যানট্রাম মিশাতে গেলে চোখ ধাঁধানো সবুজ আলো আর বিকট বিস্ফোরণ ঘটেছিল। বিধুশেখর এইভাবে প্রোফেসরকে সাবধান করেছিল।

Q3. মঙ্গলগ্রহে যাওয়ার সময় রকেটের মধ্যে কী ঘটনা ঘটেছিল? মঙ্গলগ্রহে নেমে প্রোফেসর কী দেখলেন?

রকেট মঙ্গলগ্রহের দিকে ছুটে চলার সময় প্রোফেসর বিধুশেখরকে বাংলা শেখাচ্ছিলেন। শঙ্কুবাবুর ‘কেমন লাগছে’- প্রশ্নের উত্তরে সে কিছুক্ষণ সামনে পিছনে দুলে এবং দু-হাত ঠং ঠং করে তালি বাজিয়ে, দু-পায়ে খানিকটা সোজা হয়ে উঠে, ঘাড়টাকে চিত করে ‘গাগোঃ’ শব্দে ভালো লাগছে জানাল।

প্রহ্লাদ কয়েক মাস রামায়ণ শেষ করে মহাভারত পড়া শুরু করেছে। আর বিধুশেখর শঙ্কুবাবুর গাওয়া দ্বিজেন্দ্রগীতি “ধনধান্যেপুষ্পেভরা” বিড়বিড় করে চলেছে। জানালা দিয়ে মঙ্গলগ্রহের গায়ের রেখাগুলি দেখা যাচ্ছে। শঙ্কুবাবু ক্যামেরা, দূরবিন, অস্ত্রশস্ত্র, ফাস্ট-এড-বক্স প্রভৃতি গুছিয়ে নিলেন মঙ্গলগ্রহে নামতে হবে বলে। তাঁর ধারণা মঙ্গলগ্রহে কোনো প্রাণী আছে।

দু-ঘণ্টা হল সকলে মঙ্গলগ্রহে নেমেছে। একটা হলদে রঙের নরম পাথরের ঢিবির উপরে বসে প্রোফেসর ডায়রি লিখছেন। এখানে গাছপালা, মাটি, পাথর সবই নরম রবারের মতো। সামনে বিশ হাত দূরে লাল নদী বয়ে চলেছে। আকাশ থেকে তাকে লাল সুতো মনে হয়েছিল। গাছপালা সব নীল, আকাশের রং সবুজ।

সর্বত্র গরম হাওয়া, মাঝে-মধ্যে হাড় কাঁপানো ক্ষণস্থায়ী ঠান্ডা হাওয়া। নদীর অমৃতসম জল পান করে শঙ্কুবাবুর শরীর ও মনের সব ক্লান্তি দূর হল। বিধুশেখর ভীষণ বিপদের কথা বলেছিল। তাই তাকে রকেটে রেখে তিনটি প্রাণী মঙ্গলগ্রহের মাটি স্পর্শ করেছিল।

মঙ্গলগ্রহের মাটিতে নেমে প্রোফেসর একটা নতুন গন্ধ পেয়ে মোহিত হলেন। প্রহ্লাদ পাথর কুড়োচ্ছিল। একদিকে আকাশে সবুজ রঙের লালের ছোপ দেখে মনে হচ্ছে শীঘ্রই সূর্য উঠবে।

Q4. প্রহ্লাদ মঙ্গলগ্রহে কী ধরনের জীব দেখে? অদ্ভূত জন্তুর সঙ্গে সংঘর্ষের বিবরণ দাও।

প্রহ্লাদ এক অদ্ভুত জন্তুকে দেখে ভয়ে রকেটের দিকে ছুটছে। প্রাণীটা মানুষ, জন্তু ও মাছের সংমিশ্রণে তৈরি। দৈর্ঘ্যে তিন হাত, পা আছে কিন্তু হাতের পরিবর্তে মাছের মতো ডানা আছে, বিরাট মাথায় মুখজোড়া দাঁতহীন হাঁ, মাঝখানে বিরাট সবুজ চোখ, আর তার শরীরের সর্বত্র মাছের মতো আঁশ। সেই আঁশে সূর্যের আলো পড়ায় চকচক করছে। জন্তুটা ভালোভাবে ছুটতে পারে না, তাই পদে পদে হোঁচট খায়।

প্রোফেসর প্রহ্লাদকে বাঁচানোর জন্য তাঁর তৈরি সবচেয়ে সাংঘাতিক অস্ত্র নিয়ে জন্তুটার পিছনে ছুটেছেন। প্রহ্লাদ রকেটে উঠে পড়েছে আর জন্তুটা শঙ্কুবাবুর ২০/২৫ গজ দূরে। বিধুশেখরের লোহার হাতের আঘাতে জন্তুটা ‘চী’ শব্দে ডানা ঝাপটাতে ঝাপটাতে মাটিতে পড়ে গেল। পাছে একা বিধুশেখর মঙ্গলীয় সৈন্যদের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে তাই জোর করে ধরে তার কাঁধের বোতাম টিপে তাকে নিস্তেজ করে দেন।

অন্যদিকে দু-তিন শো জন্তু রকেটের খুব কাছে এসে গেছে। বিধুশেখর ওজনে পাঁচ মন। একা সামলানো সম্ভব নয় দেখে তার কোমরের কবজা খুলে দু-ভাগ করে দেয় প্রোফেসর। মাথার দিকটা অতিকষ্টে টেনে রকেটের দরজার সামনে তিনি আনেন। সৈন্যরা এখন পঞ্চাশ গজের মধ্যে।

শঙ্কুবাবু পা ধরে টেনে তলার অংশটা রকেটের দরজার সামনে আনেন। ওদিকে প্রহ্লাদ আগেই বিধুশেখরের মাথার দিকটা রকেটে তুলে ফেলেছে। শঙ্কুবাবু বাকি অংশটা ভিতরে তুলে কেবিনের দরজাটা বন্ধ করার ঠিক আগেই মঙ্গলীয় সৈন্যরা পায়ে আঘাত করায় তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।

Q5. “ব্যোমযাত্রীর ডায়রি” অবলম্বনে মহাকাশের দৃশ্যাবলির বর্ণনা দাও।

রকেট অবিরত অজানা পথে এগিয়ে চলেছে। বহুদিন হল। রসদ আর কয়েক দিনের আছে। সকলের শরীর ও মন খারাপ। এমন সময় বিধুশেখর আনন্দে “বাহবা বাহবা” বলতে থাকে। তার কথায় রকেটের জানালা খুলে দেখা যায় – সে এক চোখ ঝলসানো দৃশ্য।

প্রোফেসরের চোখ কিছুক্ষণ অন্ধকার হয়ে গেল আলোর ঝলকানিতে। আকাশযাত্রীরা সব অদ্ভুত অবিশ্বাস্য জগতের মধ্য দিয়ে চলেছে। আকাশময় শুধু বুদ্বুদ ফুটছে আর ফাটছে। অসংখ্য সোনার বল নিজে থেকেই বড়ো হতে হতে হঠাৎ ফেটে সোনার ফোয়ারা ছড়িয়ে অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে। সকলেই মুগ্ধ কিন্তু নিউটন ঝাঁপিয়ে পড়ে জানালার কাচটা খামচাচ্ছে যাতে সে বাইরে চলে যেতে পারে।

সকলেই খিদে-তেষ্টা ভুলে গেছে এই অদ্ভুত দৃশ্য দেখতে থাকে। মাঝে মাঝে দৃশ্য পরিবর্তন হচ্ছে। সারা আকাশ সাপের মতো কিলবিলে সব আলো এদিক-ওদিক ছুটে চলেছে। মাঝে মাঝে তাদের আলোয় কেবিনের ভিতরটা আলোময় হয়ে যাচ্ছে। যেন মনে হচ্ছে সৌরজগতের কোনো বাদশাহের উৎসবে আতসবাজির খেলা চলছে।

Q6. বিধুশেখর কে? ‘টাফা' গ্রহ সম্বন্ধে বিধুশেখরের ধারণা কী? টাফায় অবতরণ করে প্রোফেসর কী কী দেখলেন এবং অনুভব করলেন ?

প্রোফেসরের রোবটের নাম বিধুশেখর।

বিধুশেখরের মতে ‘টাফা’ গ্রহে নাকি সৌরজগতের প্রথম সভ্য লোকেরা বাস করে। পৃথিবীর সভ্যতার থেকে টাফার সভ্যতা বেশ কয়েক কোটি বছরের পুরোনো। এই গ্রহে বসবাসকারী লোকেরা নাকি সকলেই বৈজ্ঞানিক এবং এত বুদ্ধিমান লোক একসঙ্গে থাকতে তাদের খুব অসুবিধা হচ্ছে।

তাই তারা কয়েক বছর থেকে অন্য সব গ্রহ থেকে একটি করে কম বুদ্ধির লোককে টাফায় আনিয়ে বসবাস করাচ্ছে। টাফায় কাল পৌঁছে রকেট থেকে যখন প্রোফেসর নামলেন, তখন ওখানের বহু লোক (অতিকায় পিঁপড়ে) তাঁকে অভ্যর্থনা করছে।

ওদের বিরাট মাথা আর চোখ। কিন্তু সেই অনুপাতে হাত-পা সরু। বিধুশেখরের কথার সঙ্গে কোনো মিল নেই। এরা মানুষের থেকে অনেক পিছিয়ে। টাফার অবস্থা পৃথিবীর থেকে অনেক আদিম। এদের কোনো ঘরবাড়ি নেই। এমনকি গাছপালা। এরা গর্ত দিয়ে মাটিতে ঢুকে সেখানেই বাস করে।

তবে প্রোফেসরকে তারা ল্যাবরেটরি ছাড়া দেশের মতো একটা বাড়ি দিয়েছে থাকতে। এরা সত্যি প্রোফেসরকে খুব যত্ন করছে, তাঁর ভাবনা হয়তো তারা শঙ্কুবাবুর কাছ থেকে কিছু শিখতে পারবেন। এরা আবার বাংলা ভাষায় কথা বলতে পারে।

সেদিন একটা পিঁপড়েকে ডেকে শঙ্কুবাবু তাদের বৈজ্ঞানিকদের খোঁজ নেন। যাতে পিছিয়ে পড়া ওদের কিছু শেখাতে পারেন। প্রোফেসর বুঝতে পারেন যে, তাঁর আর পৃথিবীতে ফেরা সম্ভব নয়, তাই তিনি এখন থেকে ডায়রি লেখা বন্ধ করেন। আর ডায়রির মূল্যবান তথ্য টাফা গ্রহের বসবাসকারী মূর্খরা বুঝতেও পারবে না।

Q7. লেখক প্রোফেসর শঙ্কুর আশ্চর্য ডায়রিটি কীভাবে পান? প্রোফেসরের ১ জানুয়ারির ডায়রি থেকে কী জানা যায়?

বাংলা কল্পবিজ্ঞান সাহিত্যের সার্থক রচয়িতা সত্যজিৎ রায় তাঁর “ব্যোমযাত্রীর ডায়রি” গল্পে প্রোফেসর শঙ্কুর আশ্চর্য ডায়রি প্রাপ্তি সম্বন্ধে বলেছেন। সেদিন দুপুরে লেখকের পিতার পরিচিত তারক চাটুজ্যে একটি লাল ডায়রি এনে লেখককে দিলেন। তারকবাবু গরিব।

এর আগে তিনি কিছু-না-কিছু লেখা দিয়ে পাঁচ-দশ টাকা করে নিয়ে গেছেন। এই ডায়রি প্রাপ্তির ব্যাপারে তিনি বলেন যে, কয়েক বছর আগে একটি উল্কাখণ্ড সুন্দরবনের মাথারিয়া অঞ্চলে এসে পড়ে। তাতে সেখানে ভীষণ গর্ত হয়ে যায়। সেই গর্তের মাঝখানে এই ডায়রিটা পাওয়া যায়। কুড়ি টাকার বিনিময়ে এই ডায়ারিটা দিয়ে লেখককে আশীর্বাদ করে চলে যান।

প্রোফেসর শঙ্কুর ১ জানুয়ারির ডায়রিতে পাওয়া যায় প্রোফেসর শঙ্কু প্রতিদিনের মতো নদীর ধারে প্রাতভ্রমণ সেরে বাড়ি ফেরেন। শোবার ঘরে ঢুকেই আয়নায় নিজের বিদঘুটে চেহারা দেখে অন্য কেউ মনে করে চিৎকার করে ওঠেন। পরে জানতে পারেন এই চেহারা তাঁর নিজের।

সাতাশ বছরের সঙ্গী প্রহ্লাদ বছর শেষ হয়ে যাওয়ার জন্য গত বছরের ক্যালেন্ডারটা আয়নার থেকে সরিয়ে দেওয়াতে এই বিপত্তি। এর জন্য প্রোফেসর শঙ্কু তাঁর আবিষ্কৃত snuff-gun (নস্যাস্ত্রটা) গোঁফের কাছাকাছি মারতেই রাত্রি এগারোটা পর্যন্ত অবিরল হাঁচতে থাকে। এখনও তেত্রিশ ঘণ্টা এই কাজ চলবে।

Q8. প্রোফেসর শঙ্কুর আবিষ্কৃত রকেট প্রথমবার কীভাবে নষ্ট হয়? প্রোফেসর শঙ্কু রকেটে কাকে কাকে নিতে চান?

প্রোফেসর শঙ্কুর আবিষ্কৃত রকেট ছাড়ার প্রক্রিয়া প্রথমবার প্রহ্লাদের দোষে নষ্ট হয়ে যায়। ঘড়িতে দম দিতে গিয়ে সে ঘড়ির কাঁটা ঘুরিয়ে সাড়ে তিন ঘণ্টা লেট করার ফলে রকেটটা খানিকটা উঠে গোঁৎ খেয়ে অবিনাশবাবুর মূলোর খেতে পড়ে। এতে প্রোফেসরকে ক্ষতিপূরণ হিসাবে পাঁচশো টাকা দিতে হয়।

প্রোফেসর শঙ্কু তাঁর আবিষ্কৃত রকেটে করে মঙ্গল গ্রহে যেতে সঙ্গে ২ মন ৭ সের ওজনের প্রহ্লাদকে সঙ্গে নিতে চান। কারণ সে বোকা হলেও সাহসী। একদিন প্রহ্লাদ ল্যাবরেটরিতে বিরাট ধ্বংসের হাত থেকে সকলকে বাঁচিয়েছিল। ঘটনাটি হল – একবার কড়িকাঠ থেকে একটি টিকটিকি প্রোফেসরের ল্যাবরেটরিতে থাকা বাইকনিক অ্যাসিডের শিশিটার উপর পড়ে তাকে উলটে দেয়।

তখন অ্যাসিডটা গড়িয়ে গড়িয়ে প্যারাডক্সাইট পাউডারের স্তূপের দিকে এগিয়ে যায়। অ্যাসিড ও পাউডারের সংমিশ্রণ ঘটলে সব ধ্বংস হয়ে যেত। প্রহ্লাদ তখন অতি সহজে গামছা দিয়ে অ্যাসিডটা মুছে দেয়। এর ফলে প্রোফেসর ল্যাবরেটরি, বিধুশেখর (রোবট), প্রহ্লাদ, টিকটিকি এসব বেঁচে যায়।

যেহেতু রকেট কুড়ি মন পর্যন্ত ভার বহন করতে সমর্থ তাই প্রোফেসর (১ মন ১১ সের) ব্যোমযানে প্রহ্লাদ (২ মন ৭ সের), বিধুশেখর (সাড়ে ৫ মন), জিনিসপত্র ও সাজসরঞ্জাম (৫ মন) এবং নিউটন (বেড়াল)-কে সঙ্গে নিতে চান।


Q9. রকেট তাজানা উদ্দেশে যাত্রা করলে যাত্রীদের কীরূপ অবস্থা হয়? জানালা থেকে টাকা গ্রহ কেমন দেখাচ্ছিল?

রকেট অজানা উদ্দেশে যাত্রা করেছে। জানলা খুলতেই মহাকাশের আলোর ঝলকানিতে প্রোফেসরের চোখ ঝাপসা হয়ে আসে। ক্ষণে ক্ষণে দৃশ্য পরিবর্তন হচ্ছে। সারা আকাশময় সাপের মতো কিলবিলে সব আলো এদিক-ওদিক ছুটে বেড়াচ্ছে। শুধু বিধুশেখর ছাড়া সকলেই ভীষণ ভয়ে আতঙ্কিত।

আকাশে দেখা যাচ্ছে বিশাল বিশাল গোলাকার এবড়ো-খেবড়ো পাথরের চাঁই। তাদের গায়ে অবস্থিত গর্তের ভিতর থেকে অগ্ন্যুদ্গার হচ্ছে। রকেট তাদের ফাঁক দিয়ে দ্রুতবেগে ছুটে চলেছে। প্রহ্লাদ ভয়ে ইষ্টনাম জপ করছে। নিউটন ভয়ে টেবিলের তলায় ঢুকে থরথর করে কাঁপছে। প্রোফেসর তাঁর মৃত্যু আসন্ন মনে করলেন।

বিধুশেখরের ‘টাফা’ চিৎকারে জানালা খুলে দেখা যায় একটি ঝলমলে সাদা নির্মল একটি চাঁদের মতো ‘টাফা’ গ্রহ। → রকেটের জানালা থেকে ‘টাফা’ গ্রহের অপূর্ব দৃশ্য দেখা গেল। টাফার সর্বাঙ্গে যেন অগণিত জোনাকি জ্বলছে আর নিবছে। সেই আলোতে মঙ্গলযাত্রীদের কেবিনও আলো হয়ে গেল।

ফলে সকলে আনন্দিত। টাফা মনে হয় বেশি দূরে নেই। কালই হয়তো সেখানে তারা পৌঁছে যাবে। গ্রহটা কীরকম তা জোনাকির মতো আলোয় ভালো বোঝা যায় না। টাফায় অবতরণের পরই ভালো করে গ্রহটি দেখা যাবে।

Q10. প্রোফেসর কীভাবে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন? প্রোফেসরের জ্ঞান ফিরলে তিনি কী ভাবতে থাকেন এবং কীভাবে অদ্ভুত জন্তুর সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ ঘটে?

সত্যজিৎ রায়ের বিখ্যাত গ্রন্থ শঙ্কু সমগ্রে ‘প্রোফেসর শঙ্কু’-র প্রথম গল্প “ব্যোমযাত্রীর ডায়রি”। প্রোফেসর শঙ্কু মঙ্গল গ্রহে এক অদ্ভুত জন্তুর হাত থেকে বাঁচতে রকেটে ওঠার চেষ্টা করেন। কিন্তু কেবিনের দরজাটা বন্ধ করার আগেই সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলেন।

প্রোফেসরের জ্ঞান ফিরলে দেখেন রকেট আকাশপথে অজানা উদ্দেশে সৌরজগতের অসংখ্য গ্রহনক্ষত্রের মধ্য দিয়ে ছুটে চলেছে। কে রকেট চালিয়েছে তাঁর জানা নেই। প্রোফেসরের চিন্তার অন্ত নেই। কোথায় যাচ্ছেন জানেন না। তিন বছর পর রসদ শেষ হলে খাবেন কী?

এইসব প্রশ্নের কোনোটারই উত্তর প্রোফেসরের কাছে নেই। রকেটের যন্ত্রপাতি কাজ করছে না। তবুও চলছে। আজ তিনি অজ্ঞান অসহায়। আর ভবিষ্যৎ অন্ধকার। এমন সময় সে আঁশটে গন্ধ পায়। তাতে সে মুখ তুলে দেখে একটি না-মানুষ, না-জন্তু, না-মাছ এমন এক জন্তু নদীর ধারে দাঁড়িয়ে।

নিউটন তাকে তাড়া করে তার হাঁটুতে কামড় দেয়। তাতে সে ঝিঁঝির শব্দে সেখান থেকে পালিয়ে যায়। তখন অন্য জন্তু প্রহ্লাদকে তাড়া করে যেটা প্রোফেসর দেখতে পান।

Q11. “বিধুশেখর বলল, গবাক্ষ উদ্ঘাটন করহ।"  বিধুশেখরের কথা শোনার ফলে প্রোফেসর শঙ্কুর যে অভিজ্ঞতা হয়েছিল তা গল্প অনুসারে লেখো।

বাংলা কল্পবিজ্ঞান সাহিত্যের সার্থক রচয়িতা সত্যজিৎ রায়ের লেখা “ব্যোমযাত্রীর ডায়রি” গল্পে যন্ত্রমানব বিধুশেখর প্রোফেসর শঙ্কুকে সৌরজগতের অজানা উদ্দেশে যাত্রাকারী রকেটের জানালা খুলতে বলে। মঙ্গলগ্রহে অদ্ভুত জন্তুদের হাত থেকে বাঁচতে রকেট অজানা উদ্দেশে যাত্রা করে।

সৌরজগতের অসংখ্য গ্রহনক্ষত্রের মধ্য দিয়ে রকেট দ্রুত গতিতে ছুটে চলে। অনেকক্ষণ পর প্রোফেসরের জ্ঞান ফিরতেই তাঁর চিন্তার অন্ত নেই। রসদ আর কয়েকদিনের আছে। সকলের শরীর ও মন খারাপ। এমন সময় বিধুশেখর রকেটের জানালা খুলতে বলে।

বিধুশেখরদের কথায় প্রোফেসর রকেটের জানালা খুলে দিতেই অনেক অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করলেন। রকেটের জানালা খুলতেই চোখ ঝলসানো দৃশ্য প্রোফেসরকে কিছুক্ষণের জন্য অন্ধ করে দিল। প্রোফেসরের চোখ কিছুক্ষণ অন্ধকার হয়ে গেল আলোর ঝলকানিতে। আকাশযাত্রীরা সব অদ্ভুত অবিশ্বাস্য জগতের মধ্য দিয়ে চলেছে।

আকাশময় শুধু বুদ্বুদ ফুটছে আর ফাটছে। অসংখ্য সোনার বল নিজে থেকেই বড়ো হতে হতে হঠাৎ ফেটে সোনার ফোয়ারা ছড়িয়ে অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে। সকলেই মুগ্ধ কিন্তু নিউটন ঝাঁপিয়ে পড়ে জানালার কাচটা খামচাচ্ছে যাতে সে বাইরে চলে যেতে পারে। সকলেই খিদে-তেষ্টা ভুলে গিয়ে এই অদ্ভুত দৃশ্য দেখতে থাকে।

মাঝে মাঝে দৃশ্য পরিবর্তন হচ্ছে। সারা আকাশ সাপের মতো কিলবিলে সব আলো এদিক-ওদিক ছুটে চলেছে। মাঝে মাঝে তাদের আলোয় কেবিনের ভিতরটা আলোময় হয়ে যাচ্ছে। যেন মনে হচ্ছে সৌরজগতের কোনো বাদশাহের উৎসবে আতসবাজির খেলা চলছে।

অনেক ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে রকেট শেষে ‘টাফা’ গ্রহে এসে উপস্থিত হল। তার সর্বাঙ্গে যেন অগণিত জোনাকি জ্বলছে আর নিবছে। ‘টাফা’ গ্রহে নেমে প্রোফেসরের সঙ্গে সেখানকার অধিবাসী অতিকায় পিঁপড়েদের পরিচয় ঘটে।

#class9 #class9bengali #professorshonku #professorshanku #byomjatrirdiary #satyajitroy #satyajitroybyomjatrirdiary #byomjatrirdiaryquestionanswer #class9bengalisuggestion #byomjatrirdiaryclass9